৩রা জুলাই, ২০২০ ইং, শুক্রবার

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যা লিখলো ভারতীয় গণমাধ্যম

আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন মিরপুরের ক্রিকেট পাড়ায়। ধর্মঘটের পর থেকে নানা ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ভারত সফরে তার অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে এখন ফিক্সিং ইস্যুতেও তার নামটি জড়িয়েছে সবশেষ।

এ ব্যাপারে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সফরের আগে অস্বস্তি বাংলাদেশ ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ১৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করতে চলেছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র দৈনিক সমকাল-এ প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।

দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর দুয়েক আগে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে এক বুকির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। সেই বুকির প্রস্তাব তিনি তৎক্ষণাৎ নস্যাৎও করে দিয়েছিলেন। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার যদি বুকিদের কাছ থেকে কোনও প্রস্তাব পান, তা হলে আইসিসি বা সংশ্নিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন কর্তাদের তা জানানো বাধ্যতামূলক।

তাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমকাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুকির কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পরে সাকিব গোটা ব্যাপারটা গোপন করেন। পরবর্তীকালে আইসিসি বিষয়টি জানতে পারে। আন্তর্জাতিক জুয়াড়িদের কল রেকর্ড ট্র্যাক করে এ ব্যাপারে তথ্যও উদ্ধার করা হয়। যে বুকির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব, সে আইসিসি-র কালো তালিকাভুক্ত।

সেই দৈনিকের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে পুরোদস্তুর নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আইসিসি-র অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’-এর সঙ্গে আলাদা করে কথাও বলেন। প্রতিবেদন বলছে, সাকিব নাকি তাঁদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। বুকির কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পরে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব তিনি দেননি।

বিষয়টিকে হাল্কা ভাবে নেওয়াতেই সাকিব এখন বিপন্ন। এ ক্ষেত্রে আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ছ’ মাস আর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে। অ্যান্টি করাপশন-এর প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব সহযোগিতা করায় তাঁর উপর ১৮ মাসের শাস্তি নেমে আসতে চলেছে বলে সেই দৈনিকের খবর। আইসিসি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

সাকিব যে শাস্তির মুখে, সেই ব্যাপারে সবটাই জানে বিসিবি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন সপ্তাহখানেক আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সাকিব যে ভারত সফরে খেলতে আসবেন না, তা-ও বিসিবি প্রেসিডেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। ভারত সফরে নতুন অধিনায়ক নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথাও উল্লেখ করেছিলেন পাপন।

জাতীয় দলের সঙ্গে সাকিব যাতে অনুশীলন না করেন, সেই নির্দেশ বিসিবি-কে দিয়েছে আইসিসি। সেই কারণেই জাতীয় দলের সঙ্গে এখন অনুশীলন করছেন না সেই দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। গোটা ঘটনায় বিসিবি সাকিবের পাশেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনের খবর।

জানা গিয়েছে, আইসিসি-র কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন। ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা সাকিবের উপরে নেমে এলে, তা কমানোর প্রতিশ্রুতি নাকি পাওয়া গিয়েছে। আইসিসি-র দুর্নীতি দমন বিভাগের নিয়ম মেনে চললে শাস্তির মেয়াদ কমেও আসতে পারে। আপাতত ভারত সফর চলে গিয়েছে পিছনের সারিতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট উত্তাল সাকিবকে নিয়ে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন